Bengali New Year

স্মৃতির সরণি বেয়ে পয়লা বৈশাখ

এবং রূপকথা

প্রিয়তা,

তোকে ছুঁতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই ঝরে যাচ্ছে বসন্ত। একে কি অকাল বসন্ত বলব?  সে যা হোক কিছু একটা ভেবেই নিস। মনের মতো ব্যাখ্যা সাজিয়ে রাখিস তোর বছর পয়লার খেড়োর খাতায়। তবে খেড়োর বাহুল্যে বদল আনিস না যেন। এখন তো তোর আমার মাঝে সম্প্রীতির বেড়াজাল উঠেছে। কালের স্রোতে ভেসে গিয়ে খেড়োর খাতা যেন গৈরিক না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখিস। আচ্ছা হালখাতার সঙ্গে তোর চিরকালীন বৈরীতা ঘুঁচলো?  নাকি সদরে তালা ঝুলিয়ে তাকে জবাব দিয়েছিস?  গাজনের মেলায় গিয়ে ধরম ঠাকুরের থানে কিছু চাইলি কি আমার জন্য ?  থাক এসব বলে তোকে আর বিব্রত করব না। আসমানি রঙা পাঞ্জাবিটা পরিস না। ওটায় বড় ন্যাপথেলিনের গন্ধ। সকাল সকাল হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর কেতা আমায় দেখাতে হবে না। ওটা তোর শহুরে স্বজনের জন্য তুলে রাখ। পাট ভাঙা পাঞ্জাবি পরে, এক খিলি মিঠে পান মুখে দিয়ে পারলে একটা চিঠি লিখিস। চিঠিটা যেন মিঠেকথাতেই পূর্ণ থাকে। চিন্তা করিস না, চিঠি যদি ভারতীয় ডাক বিভাগের কল্যাণে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে এসেও পৌঁছায়, তাতে ক্ষতি নেই। বৃষ্টি দেখতে দেখতে না হয় সে চিঠিখানা খুলে বসব। আরও পড়ুন-“রোগ তো শরীরের হয়েছে, আমি আনন্দে আছি”




ফুল মাসিদের সদ্য কেনা গাড়ি খানা কেমন হয়েছে?  খিড়কির পুকুরে কি এক আধটা রুই কাতলা আছে? তোর ক্লাস নাইনের ডায়রির ভাঁজে রাখা ২১ ফেব্রুয়ারির গোলাপ? তাকে ছুঁয়ে দেখিস তো?  আমার লাল পেড়ে কাপড়, রান্নাবাটির বাক্স আছে তো সব আগের মতো?  বিকেলবেলায় কখনও কখনও পোড়ো শিব মন্দিরে যাস ? নাকি ট্যাবের মায়ায় সেসব ত্যাগ করেছিস?  ছাদে দাঁড়িয়ে বাজি উৎসব দেখিস কী করে? সেখানে তো শুনি মস্ত উড়ালপুল হয়েছে। দিনরাত হুহু করে গাড়ি ছুটছে। তুই ও কি ছুটছিস?  শুনলাম যশোর রোড লাগোয়া গাছগুলো কাটা পড়ছে। আরে ওখানেই তো আমার জারুল, গামাহার আছে। আমার মেয়েবেলার বন্ধুরা। আমার পলাশ, শান্তিনিকেতনকে মনে করায়। তোর চিঠি যখন পড়ব, তখন ওরা থাকবে তো ? আরও পড়ুন-ক্যানভাসে বৃষ্টির রাত, প্রহর জাগে ১৪ ফেব্রুয়ারি




বিকেলে একবার বই পাড়ায় যাস। বর্ষবরণে তাদের উজ্জাপন খানা দেখে আসিস। বইয়ের ভিড়ে, প্রুফের স্তূপের পাশে সে তো চিরন্তনী পয়লা বৈশাখ। নির্ভেজাল আড্ডা। নতুন কাপড়ের খসখস, পাত পেড়ে ভুরিভোজ, তারপর গান হবে না ছাদে বসে ? সন্ধ্যা বেলা কালবৈশাখী এলে ঠান্ডা লাগার  ভয়ে ঘরে পালাবি? যাস না। সে তো আমাদের আম কুড়োনোর সখা। ফেরার পথে শ্যামকাকার দোকান থেকে হালখাতার মিষ্টি নিতে ভুলিস না যেন। তুই না হয় ডায়েট সচেতন বং। আরে আমি তো পাতি বাঙালি।

শুভেচ্ছা জানিস।

ইতি- তোর মিঠে কড়া

Post Author: bongmag

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।