Cyclone Nisarga

Cyclone Nisarga: ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের তাণ্ডবে কাঁপছে মহারাষ্ট্র, দিশেহারা মুম্বই

বাংলায় এখনও টাটকা ঘূর্ণিঝড় উম পুনের ক্ষত। এর মধ্যেই দেশের মহারাষ্ট্র উপকূলে আছড়ে পড়ল দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ (Cyclone Nisarga)। বুধবার বেলা একটা বাজতেই আলিবাগ এলাকায় নিসর্গের ল্যান্ডফল হয়। সেখানে এখন ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। অন্যদিকে মুম্বই শহর ও লাগোয়া নভি-মুম্বইতে বইছে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোরো হাওয়ায়। হাওয়ার দাপটে ইতিমধ্যেই শহরের মধ্যে একের পর এক শিকড় সমেত গাছ উপড়ে পড়ছে।

তবে এখনও পালঘর ও থানেতে নিসর্গ ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Nisarga) তাণ্ডব শুরু হয়নি। বিকেল চারটে পর্যন্ত তাণ্ডব দেখিয়ে মুম্বই শহর  ছেড়ে গুজরাটের উপকূলবর্তী এলাকায় চলে যাবে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। এই মুহূর্তে শহরের উপকূলবর্তী এলাকা বান্দ্রা ওরলিতে ট্রাফিক থমকে গিয়েছে। এদিকে ১৮৯১ সালের পর ফের এমন ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি শহর মুম্বই। তাই প্রস্তুতি চরমে।


ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের (Cyclone Nisarga) দাপটে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী কাজে নেমে পড়েছে। মুম্বই শহরেই রাখা হয়েছে এনডিআরএফ-এর আটটি দলকে। রায়গড়ে রয়েছে পাঁচটি দল। অন্যদিকে পালঘর ও থানেতে দুটি করে দল মোতায়েন রয়েছে। রত্নগিরিতে দুটি দল, আর সিন্ধুদুর্গে মোতায়েন আছে একটি দল। আরও পড়ুন-Robot Journalist: করোনাভাইারাসের থাবায় সাংবাদিক ছাঁটাই, রোবট জার্নালিস্ট নিয়োগ করল এই সংবাদ মাধ্যম

ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের (Cyclone Nisarga) বিপর্যয় এড়াতে বুধবার একেবারে সাতসকালেই কোলিওয়াড়া ও আলিবাগ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় এনডিআরএফ। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের অনেক আগেই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধাব ঠাকরের সঙ্গে বার্তালাপ সেরে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইভাবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি ও দমন দিউ-র প্রশাসন এবং দাদরা নগর হাভেলি প্রফুল্ল কুমার প্যাটেলের সঙ্গেও একপ্রস্থ কথা হয়েছে।


বার্তালাপের সঙ্গেই কেন্দ্রের যাবতীয় সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা মনে রাখতে হবে যে ১৯৬১-র পর নিসর্গই হল প্রথম ঘূর্ণিঝড় যা মহারাষ্ট্রের উপকূলে আছড়ে পড়ল। এই প্রসঙ্গে মৌসম ভবনের ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, মুম্বই শহর,  রায়গড়,  থানে,  পালঘর-সহ মহারাষ্ট্রের আরও চার জেলায় এই নিসর্গের (Cyclone Nisarga) ভয়াবহ প্রভাব পড়তে চলেছে।

তবে প্রতিবেশী গুজরাটে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের (Cyclone Nisarga) ক্ষমতা কিছুটা কমে যাবে। ভালসাদ জেলা ও নভসারির কিছু অংশ-সহ সুরাটে ল্যান্ডফলের পর নিসর্গ ঘুর্ণিঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। ঝড়ের এই গতিবেগ গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, টেলিফোনের টাওয়ার উপড়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এমনিতেই  ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ হরিহরেশ্বর ও দমনের মধ্যে দিয়ে আলিবাগের গা ছুঁয়ে মহারাষ্ট্র অতিক্রম করবে। এই যাত্রাপথে মুম্বই, থানে ও রায়গড়ে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার।


একইভাবে সিন্ধুদুর্গ, পালঘর ও রত্নগিরিতে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের (Cyclone Nisarga) গতিবেগ থাকবে ৮০-৯০ কিলোমিটার। মধ্যরাতে গুজরাটের নভসারি ও ভালসাদে ঝড়ের গতিবেগ কমে হবে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার। আগামীকাল সকালে দুর্বল হয়ে পড়বে নিসর্গ, তখন শুরু হবে বৃষ্টি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ইতিমধ্যেই কোলিওয়াড়ার অন্তত হাজার খানেক মৎস্যজীবী পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ঘূর্ণিঝড় (Cyclone Nisarga) শুরুর পরেপরেই মুম্বইতে সমুদ্রতট লাগোয়া ঢেউ এক থেকে ২ ফুট লম্বা হতে পারে। সেই সঙ্গে শুরু হবে ভারী বর্ষণ। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতি হতে পারে এই আশঙ্কায় মুম্বইয়ের বেশকিছু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। আরও পড়ুন-Usha Uthup: লকডাউন উঠলে আবার লাইভ শো করব, আশায় বুক বাঁধছেন ঊষা উত্থুপ

মনে করা হচ্ছে এক শতাব্দীর মধ্যে মুম্বইতে সবথেকে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের জায়গা নিতে চলেছে নিসর্গ (Cyclone Nisarga)। যেখানে দেশের বাণিজ্যনগরী ২০০৫, ২০১৭ এবং ২০১৯-এ দেখেছে মর্মান্তিক বন্যা। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এই শহরের তেমন কোনও সম্পর্কই নেই।


এদিকে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মহারাষ্ট্রের উপকূলে ল্যান্ডফল সাঙ্গ করেছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ (Cyclone Nisarga)। মুম্বই-সহ রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে খেল দেখাতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড়। চলছে ঝোরো হাওয়ার তাণ্ডব, সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত। আলিবাগের মৎস্যজীবী কলোনিগুলির অবস্থা খানিকটা মোচার খোলার মতো। ঝড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। আবহাওয়া দপ্তরের খবর বলছে, আগামী তিন ঘণ্টা এমনই বৃষ্টিপাত চলবে।

এদিকে বেলা একটার আগে যখন গোটা রাজ্য ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের (Cyclone Nisarga) প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন দমকা হাওয়ায় কাঁপল গোটা আলিবাগ। আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট বলছে এর আগে মুম্বইকররা প্রকৃতির এমন দস্যিপনা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায়নি। এবার দেখবে ঘূর্ণিঝড় কাকে বলে।


এদিকে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের (Cyclone Nisarga) তাণ্ডবে বেলাভূমি, পার্ক, রাস্তা, সব জায়গা থেকেই বাসিন্দাদের দূরে থাকতে বলা হয়েছে। ঝড়ের সময় পরিবারের সকলকে নিয়ে বাড়িতে থাকার নির্দেশিকা জারি হয়েছে মহারাষ্ট্রজুড়ে। তাই নিজের বাড়ির জানলা থেকে ঝড়ের তাণ্ডবলীলার ভিডিও ও ছবি তুলে চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। আরও পড়ুন-করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চাঁদে যেতে চান? সুবর্ণ সুযোগ দিচ্ছে নাসা

ইতিমধ্যেই সতর্ক এনডিআরএফ টিম কাজ শুরু করেছে। ঝড়ের আগেভাগেই দুর্বল বাড়ি, গাছে ঘেরা এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তরফে ডিরেক্টর জেনারেল এস এন প্রধান জানান, বিপদ এড়াতে সবমিলিয়ে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে এক লক্ষ বাসিন্দাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগেই ঝড়ের সময় বিপজ্জনক বাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবির আশ্রয় নেওয়ার জন্য রাজ্যবাসীকে অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

 

 

Post Author: bongmag

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।