Bermuda-Triangle Final

এই পুজোতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্য ভেদ করতে চলেছেন একঝাঁক অভিযাত্রী, যাবেন নাকি?

‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’ আটলান্টিক মহাসাগরের এই ত্রিকোণাকৃতি জায়গাটি নিয়ে গোটা বিশ্বের মানুষের কৌতূহলের কোনও শেষ নেই। আর থাকবে নাই বা কেন, সেই কবে কলম্বাস যখন আমেরিকা আবিষ্কারে বেরিয়েছিলেন তখনও তাঁর কাছে ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’ রহস্যময়তায় মোড়া ছিল। ইতিহাস পট পরিবর্তন করলেও ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’ আগের মতোই রয়ে গিয়েছে। এযেন অদৃশ্য হওয়ার নামান্তর। আটলান্টিক মহাসাগরের ওই অঞ্চল থেকে যখনই কোনও বিমান ও জাহাজ গিয়েছে তখনই সেসবের আর কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি।


তাই ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’ মানেই হারিয়ে যাওয়া। বিজ্ঞানীরা এই ত্রিভুজাকৃতি অঞ্চলের রহস্য উন্মোচন করতে পারলেও ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে’-র মধ্যে পড়ে যাওয়া বিমান, জাহাজগুলি কোথায় যায়, তা নির্ধারণ করতে পারেননি। এবার সেই রহস্যময়তায় মোড়া ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল’ অভিযানের ডাক দিল ফেসবুকের একটি গ্রুপ। ‘স্টর্ম দ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল, ইট কান্ট সোয়ালো আস অল’ । এই নাম নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ৪০ হাজার নেটিজেন। কী আছে ওই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে? যেখানে সবকিছু হারিয়ে যায়। এই ফেসবুক গ্রুপকে তা জানতেই হবে। সেই রহস্যময়তাকে ভেদ করতেই আগামী ১ অক্টোবর বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করছেন ৪০ হাজার জন। এই গ্রুপ এক দিনে তৈরি হয়নি, প্রথমেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলেছে ফেসবুকে। যেমন এলিয়েনের রহস্য ভেদ করতে তৈরি হয়েছে ‘স্টর্ম এরিয়া ৫১’, তেমনই এবার তৈরি হল বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল অভিযানের গ্রুপ। রহস্যে ঘেরা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন বেশ কয়েকজন নেটিজেন। একে একে অনেকেই এই অভিযানে সঙ্গী হতে এগিয়ে এলেন, দেখতে দেখতে অভিযাত্রীর সংখ্যা গিয়ে পৌঁছাল ৪০ হাজারে।


তবে যাওয়ার আগে তো প্রস্তুতিরও বিষয় থাকে, এখন সেসব চলছে। অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন অ্যানটনি কারনোভালে। তিনি বলেছেন, ‘রহস্যময়তাকে ভেদ করতে চলেছি তাই যেমন তেমন কোনও পোশাক নয়। প্রত্যেক অভিযাত্রীকেই বিশেষ পোশাকে পরে আসতে হবে। স্পঞ্জবব ও পাইরেটের চরিত্রের আঙ্গিকে হবে পোশাক। নৌকা ও স্কুবগিয়ারের ব্যবস্থা আমি করে রাখব।’ অক্টোবরের এক তারিখ আসতে খুব বেশি দেরি নেই। ৪০ হাজার মানুষ সেই শয়তানের ত্রিভুজের দিকে এগিয়ে যাবেন। যেখানে গত ১০০ বছরে এক হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।


তবে বিজ্ঞানীরা রহস্যের জাল একটু হলেও গোটাতে পেরেছেন, তাঁদের মতে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে রয়েছে ষড়ভুজাকৃতি মেঘ, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে হেক্সাগোনাল ক্লাউড। এই মেঘের ক্ষমতা অনেক বেশি। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বারমুডা দ্বীপে ২২ থেকে ৫৫ মাইল পর্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ু তৈরি করে, ষড়ভুজাকৃতি মেঘ। সেই বায়ুর গতি বেগ ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার। এই ঝড়ের মুখে কিছু পড়লে তার তো অস্তিত্বই থাকবে না। তাই কোনও বিমান বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে পড়লে ওই এয়ার বম্বের বদান্যতায় সোজা জলের তলায় চলে যায়, যার পরিণতি মৃত্যু ভিন্ন কিছু হতেই পারে না। গবেষণায় দেখা গিয়েছে বাতাসের বুদবুদ জলের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। এর জের জল ফুলে ফেঁপে ওঠে। এমনিতেই কন্টিনেন্টাল সেলভে বিপুল পরিমাণে মিথেন হাইড্রেট জমে থাকে। এই সময় সেই মিথেন হু হু করে বেড়ে যায়, যা জলে কিছু ভেসে থাকার ক্ষমতাকে পুরোপুরি লুপ্ত করে দেয়। তাইতো বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে পড়লে অদৃশ্য হয় বিমান জাহাজ সবকিছুই। সেখানেই যাচ্ছেন অকুতোভয় ৪০ হাজার অভিযাত্রী, সঙ্গী হতে চাইলে এই বেলা যোগাযোগ করুন।

Post Author: bongmag

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।