DEAF DOG EMERSON

ভালবাসার নজির, বধির সারমেয়কে সুন্দর পরিবার দিতে দত্তক নিলেন বধির যুবক

আজ এক বধির কুকুরের কথা বলব। আমরা যেমনটা জানি কুকুরের ঘ্রান শক্তি ও শ্রবণ শক্তি মারাত্মক। তাই সে সহজেই ক্ষতিকারক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারে। একটা জিনিস ভাবুন তো যে শ্রবণ শক্তির জন্যই কুকুরের এত কদর, সেই সহজাত ক্ষমতাই যদি তার না থাকে তখন পরিস্থিতি কেমন হতে পারে। যন্ত্রণার, মনুষ্যেতর জীব কুকুর তাইবলে তার কোনও অনুভূতি থাকবে না তাতো হতে পারে না। বরং মানুষের থেকে অনেকবেশী অনুভূতি প্রবণ হয় এই সারমেয় কুল, তাইতো প্রভুভক্তির চরম নিদর্শন দেখার সুযোগ পেয়ে যাই আমরা।



আজ এমারসনের কথা বলব। মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের ফ্লোরিডার রেসকিউ সেন্টারে এসে পড়ে কুচকুচে কালো রঙা এমারসন। গোলুমোলু এমারসন সবসময়ই দুচোখ ভরা বিষ্ময় আর এক অজানা ভয় নিয়ে সবকিছু দেখত। সঙ্গী কুকুররা ছোটাছুটি করলেও সে কিন্তু শান্তই থাকত। সাধারণত ল্যাব্রাডর এমনটা হয় না। পরে রেসকিউ সেন্টারের কর্মীরা বুঝতে পারলেন, কানেই শুনতে পায় না এমারসন। তাই তার সবকিছু বুঝে উঠতে একটু দেরি হয়। অন্যদিকে আগেভাগে বুঝে গিয়ে ততক্ষণে সেই কাজটা করে ফেলেছে তার সঙ্গীরা। এরফলে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়তে থাকে সে। এদিকে ল্যাব্রাডরের বিজ্ঞাপন দেখতে পেয়ে একে একে ফ্লোরিডার ওই রেসকিউ সেন্টার থেকে সমস্ত সারমেয় বিভিন্ন পরিবারে চলে যায়, রয়ে যায় শুধু এমারসন। শেষমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় এমারসনকে নিয়ে একটি হৃদয়গ্রাহী পোস্ট করে ওই রেসকিউ সেন্টার। সেটি নিউজফিড দেখে উদগ্রীব হয়ে পড়েন নিক অ্যাবট নামের এক যুবক। এমারসন বধির, জন্ম থেকেই পৃথিবীর কোনও শব্দ সে শোনেনি, নিককে এই বিষয়টি ভীষণভাবে নড়িয়ে দিয়েছিল। কেননা নিকও যে বধির, তাইতো এমারসনের জন্য অন্তর থেকে চোরা টান অনুভব করতে থাকেন তিনি।

এদিকে বাড়িতে রয়েছে বছর সাতেকের ফন ল্যাব। নিউজফিডে নিক দেখছেন, সুন্দর পরিবারের খোঁজে রয়েছে এমারসন। তিনি যদি এমারসনকে কাছে নিয়ে আসেন তাহলে তো বেশ হয়। কিন্তু আনলেই তো হবে না তার যত্নআত্তিও করতে হবে, তাকে বুঝতে হবে। সেসব পারবেন তো? বেশিক্ষণ এই চিন্তার মধ্যে নিজেকে জিইয়ে না রেখে ফ্লোরিডার ওই রেসকিউ সেন্টারে চলে গেলেন নিক। আর তাঁকে দেখা মাত্রই পায়ের উপরে এসে পড়ল ছোট্ট এমারসন। আর ভাবার সময় নেননি নিক অ্যাবট, এমারসনকে কোলে নিয়েই বাড়ি ফিরলেন। এখন দুজনের মধ্যেই এক অন্যরকম বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। কী করে ইঙ্গিতে বার্তা বুঝতে হবে তাই এমারসনকে শেখাচ্ছেন নিক। মন দিয়ে লেসন নিচ্ছে বধির এমারসন। দুই বধিরের মধ্যে গড়ে উঠছে বোঝাপড়ার বন্ধুত্ব।

Post Author: bongmag

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।